মোহাম্মদ রাফি স্মরণেঃ বিলকিস রাফি – সাক্ষাৎকারঃপ্যাট্রিক বিশ্বাস // ভূমিকা ও তর্জমাঃ তীর্থের কুহক

যশ-খ্যাতি কত কিছুই না মানুষের জীবনের আবদার । একটু সুখ –ভালোবাসা পেতে সাত-সাগর তেরো নদী পেরুবার সাধ তো আজন্ম লালিত সার্বজনীন স্বপ্ন ।কত রঙ- চঙের দুনিয়ার কত প্রাপ্তি মেলানোর থাকে মানুষের । পৃথিবী বদলে যায় প্রতিনিয়য়ত…। মানুষ মরে গেলে পচে যায় , বেচে থাকলে রঙ বদলায়, কারণে –অকারণে বদলায় । হয়তো সময়ের প্রয়োজনে । এতো সব অনেক ভারী লেখকের কেতাদুরস্ত শব্দ-বাক্যের জুয়া । যা জীবন নামের জুয়ার আসর থেকেই নেয়া ।

 

স্রোতের বিপরীতে হেঁটে চলা কত জীবনের আখ্যান ও লুকিয়ে থাকে আশেপাশে ।ইর্ষান্বিত হয়ে এসব সাধাসিধে জীবন ও জৌলুসহীনতা কে সাদা চোখে বড্ড বেমানান লাগে । বড় বেখাপ্পা ও কল্পবাস্তবের মত শোনায় ।

নিভৃতের পথচারীরা আলোকিত করে স্বার্থপর এ দুনিয়ার ভান্ডার। কোন অভিযোগ না রেখেই শেষবেলার ঘণ্টাও বেজে ওঠে ।তবুও যেন আকুতি কন্ঠে-“শ্যাম ফির কিও উদাস হ্যাঁয় দোস্ত / তু কাহি আস পাস হ্যায় দোস্ত”  মাধ্যমে রেখে যায় স্মৃতিচিহ্ন ।

 

ঐ যে নিঃশেষে প্রাণ; যে করিবে দান ক্ষয় নাই ;তাঁর ক্ষয় নাই।

মোহাম্মদ রাফি জন্ম নিয়েছিলেন অভিবক্ত ভারতের পাঞ্জাবে ১৯২৪ সালে ২৪ ডিসেম্বর ।হিন্দির পাশাপাশি কোনকানি, ওড়িয়া,ভোজপুরি,বাংলা, মারাঠি, সিন্ধি, কন্নাডা, গুজরাটি,তেলেগু, মাঘাই,মৈথালী ও উর্দু এছাড়াও সর্বভারতীয় ভাষার বাইরে সিংহলি , ফারসী , আরবী, ডাচ,ইংরেজি, ক্রিয়োলি নানা ভাষায় কন্ঠের বৈচিত্রতার ছাপ রেখেছেন । ভারত ভাগের রক্তক্ষরণের অভিশাপে সিক্ত প্রথম স্ত্রী বশিরার প্রত্যাখ্যান সয়ে এক অন্তর্মুখী পরিবার অন্তঃপ্রাণ রাফি-কে ইহজাগতিক ৫ দশকের জীবনের মূল্যায়ন নিরেট সঙ্গীত শ্রোতা হিসেবে খালি হাতে ফিরবে না।

 

৬ টি ফিল্মফেয়ার এওয়ার্ড ও একটি জাতীয় ফিল্ম এওয়ার্ড ও ভারত সরকার প্রদত্ত পদ্মভূষণ তাঁকে কিছুটা ঋণ স্বীকারের প্রচেষ্টা । যে তুমুল জনপ্রিয়য়তা ভজন ও গজল ঢং অথবা চলচিত্র নায়কের কন্ঠ-ঠোঁটে মিশে গেছে আওয়াজের ধ্বনি , সে মানুষকে হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পুরস্কারের হাতছানি বড্ড বিচিত্র । শ্রেষ্ঠত্বের কুট লড়াইয়ে হারিয়ে একশো জনকে উপরে দিয়ে সবশেষে হলেও তো পৃষ্ঠায় নাম থাকবে- মোহাম্মদ রাফি । কিন্তু মহাকাল কন্ঠের মাতাল হাওয়া কতদূর নিয়ে যায় মোহাম্মদ রাফি –কে তাঁর উত্তরসূরী প্রজন্মের মাঝে তাঁকে প্রমাণের পরীক্ষা অন্তত দিতে হবে না  । হয়ত সমাধিটাও ছেড়ে দিতে হয়েছে অন্যকে জায়গা করে দিবে বলে  কিন্তু ঐ নারিকেল গাছ ঠাই দাঁড়িয়ে থাকবে – এখানে অস্থিমজ্জার শেষ অংশটুকু ধারণের ভালোবাসার নিদর্শণ হিসেবে ।

 

 

 

গুরুদক্ষিণায় মোহাম্মদ রাফির জন্মবার্ষিকী তে বিলকিস রাফির  ১৯৮৮ সালের প্যাট্রিক বিশ্বাস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারের তর্জমাঃ

Image may contain: 2 people, people smiling, car
Mohammad Rafi with his wife Bilqis Rafi

 

 

আমার বাবা তখন গত হয়েছেন- শুধু ছিলেন আমার মা ও এক বড় ভাই ।যতদূর মনে করতে পারছি ‘রাফি সাহেব’ তার পারিবারিক নাম ।আমার বোন তাঁর বড় ভাইকে বিয়ে করেছিল ও নিজ বোন-ই আমাদের ঘরে প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলো ।আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর পরীক্ষা দিয়ে সবেমাত্র  বাড়ী ফিরেছি তখন আমার বোন বলল- ‘আগামীকাল তোমার বিয়ে হচ্ছে’। তখন আমার বয়স মাত্র ১৩ ও রাফি সাহেবের ১৯। আমি তখন বিয়ের অর্থ বুঝতাম না তবে তাদের উপদেশ মেনে নিলাম ।আমি বিয়ের ব্যাপারে  এর বেশী বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না কেননা, তখন আমার বয়স এতই অল্প ছিল যে আমার আশেপাশে কি ঘটতে যাচ্ছে তা সম্বন্ধে কোনরুপ বিচারবুদ্ধির ধারণা-ই ছিল না।

 

 

রাফি সাহেব ১০ বচর বয়স থেকে গান গাইতেন । ফলে যখন আমাদের আমাদের বিয়ে হয়ে গেল; তখন তিনি ভালো গজল(তদানন্তীন সময়ে জনপ্রিয়) ও চলচিত্রের গান গাইতেন ।রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে কখনও রেডিও বাজিয়ে গান শোনা হতো না । আমাকে তাঁর গান সম্পর্কে বলার পড়েও গানের প্রতি তেমন কোন আকর্ষন না থাকায় তা আমার বিশেষ নজর কাড়েনি । এমনকি বিয়ের পর রাফি সাহেব নিজে কখনও তাঁর নিজের গান শোনার জন্য আমাকে প্ররোচিত করেননি । সে সবসময় আমারর দিকে হাসিমুখে ঠাট্টা করে বলত, “যদি তুমি কেবলই আমার গানের উপর নজর দাও, ঘর সামলাবে কে?” আমরা এ বিষয় নিয়ে হাসাহাসি করতাম । আমাদের বিবাহ জীবনের একেবারে প্রথমভাগে আমরা দোংরির এক চৌলে ভাড়া থাকতাম ।এতে আমার মনে কোন অভিযোগ ছিলো না। কেননা, আমি জানতাম আমার তরুণ স্বামী একদিন নাম করবেই ! এর অল্প কিছুদিন পরই আমরা ভেন্ডি বাজারের এক চৌলে চলে যাই ।কিন্তু রাফি সাহেবের এলাকাটি তেমন পছন্দ হয়নি ।তাই,  সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ও ভাগ্যের সহায়তায় কোলাবায় একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা নিশ্চিত হয় । আমি কখনই আমার স্বামীর কোন কাজে হস্তক্ষেপ করিনি। তবে বুঝতে পারতাম এত সবকিছু তিনি আমাদের দেখাশোনার জন্যই করছেন । এমনকি রাফি সাহেব কখনও লোক দেখানো আভিজাত্য দেখাননি- তিনি সারা জীবন এত খ্যাতির মাঝেও সাধারণ জীবন-যাপন করে গেছেন ।’৫৪ সালের দিকে আমরা বান্দ্রাতে স্থায়ীভাবে চলে আসি ।এখানেই আমাদের সাত সন্তানের মধ্যে ছয়জনের জন্ম হয় – চার ছেলে ; তিন মেয়ে।

 

রাফি সাহেব খুব সাধারণ মানুষ ছিলেন । তাঁর জীবনের পুরোটাই ছিল তাঁর সন্তানদের নিয়ে আবর্তিত । প্রকৃতপক্ষে, আমি বরং বলতে পারি, “উন্‌কি জিন্দেগি বাচ্চাহি থি” (বাচ্চাগুলো –ই ছিল তাঁর জীবন) ।আমি এমন কোন মুহুর্তের কথা বলতে পারবো না যে, তিনি বাচ্চাদের চোখে হারাননি । তাঁর দৈনিক রুটিন ছিল- বাসা থেকে রেকর্ডিং হাউজ ও সেখান থেকে সরাসরি বাসায় ফেরত আসা ।তারপর-ই সে বারবার বাচ্চাদের বায়নাদের ব্যাপার জিজ্ঞেস করত।এমন কিছু নেই যা সে সন্তানদের দেয়নি । সৃষ্টিকর্তা-ই ভালো জানেন, তবুও সন্তানেরা কিভাবে বড় হয়ে উঠার সময় কেন যেন বখে যায়নি। ওরা বাবাকে খুব পছন্দ করত ও তাঁকে নিয়ে অনেক গর্ববোধ ছিল ।

Image result for mohammad rafi

কেবলমাত্র  আব্বার একটি বিষয় সন্তানেরা খুব অপছন্দ করত যে- সে কোনদিন তাদেরকে রেকর্ডিং স্টুডিও, অনুষ্ঠান অথবা সিনেমা শো তে নিয়ে যেতে আগ্রহী ছিলো না । প্রকৃতপক্ষে তারা বাবার সাথে চলচিত্র দেখতে চাইতো না ।কেননা প্রতিবারই এমন কোন ঘটনা-ই ঘটত যে, “আমরা চলচিত্র শুরু হবার পরে প্রবেশ করি ও শেষ হবার আগেই হল ছেড়ে বেরিয়ে পড়ি” ।ছেলেমেয়েদের এ নিয়ে সবসময় অভিযোগ করত তারা চলচিত্রের শুরু ও শেষ কখনই জানতে পারেনি।

 

এসব ঘটনা সে ইচ্ছে করেই করত কেননা, রাফি সাহেব কোন ধরণের প্রচারণা পছন্দ করতেন না ।. এটা খুবই হাস্যকর ছিল যে এমনকি কোন বিবাহ অনুষ্ঠানে গেলেও সে তক্ষুনি গাড়ির চালককে গেটের কাছেই অপেক্ষা করতে বলত। সে প্রবেশ করেই সোজাসুজি বর-কনের কাছে চলে যেত ও উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর পরেই হেঁটে গাড়ির কাছে ফিরে আসত  এবং আমরা বাড়ির ফিরতি পথে রওনা দিতাম । এটা সত্যিই এক রসিকতা ছিল বটে!

যে সাক্ষাৎকারগুলো তাঁকে দিত হতো, সেগুলোতেও তাঁর তেমন ভূমিকা নেই । আগের রাতে সে অলসভাবে তাঁর বড় ভাই আবদুল আমিনের সাথে বসে থাকত ও সে বুঝিয়ে দিতো কিভাবে প্রতিক্রিয়াগুলো দিতে হবে। রাফি সাহেবের সকল সাক্ষাৎকারগুলো মূলত তাঁর বড় ভাই-ই করে দিতো। প্রকৃতপক্ষে সে আব্দুল(আমিন) সাহেব-কে তাঁর পিতৃতূল্য হিসেবে সম্মান করত- মানুষটি আক্ষরিক হতে আমার স্বামীর আঙ্গুল ধরে হাটতে শিখিয়েছে ।দিনশেষে, আবদুল(আমিন) সাহেবের- ই প্রকৃতপক্ষে মূল কারিগর  আমার স্বামীর তারকাখ্যাতি অর্জনে।

 

 

অভ্যাস? রাফি সাহেব, যতদূর মনে পড়ে প্রতেকদিন মধ্যরাত তিনটায় উঠতেন ও ‘রেওয়াজ’ করতেন। দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা পর সে খেলতে বের হতো – ব্যাডমিন্টন খেলত ।হ্যাঁ তাঁর একমাত্র মজাদার অভ্যাস ছিল- ঘূড়ি ওড়ানো ।এমনকি সে যদি তাঁর দুই রেকর্ডিং এর মাঝে আধা ঘন্টা বিরতিও পেত তবে ছুটে বাড়ি চলে আসত ও দৌড়ে  ছাদে গিয়ে ঘুড়ি উড়াতো । ঘূড়ি ওড়ানোর সময় সে শিশুর মত হয়ে যেত । ঘুড়ির সুতো কেটে গেলে সে শিশুর মত মুখ গোমড়া করে বসে থাকত । জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই  তাঁর  ভালোলাগার অভ্যাস বজায় ছিল ।

Mohammed Rafi Hits, Online Radio, Evergreen Hits, Mohd. Rafi Classics

মানুষের সাথে নম্র ব্যবহার-ই তাঁর উদারতার বহিঃপ্রকাশ।সে খুব ধর্মপরায়ন ছিল ও তাঁর অর্জনের জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কখনই কৃপণতা করতেন না । তাঁর চারিপাশের পৃথিবী পরিবর্তিত হচ্ছিল ও মানুষ পাল্টে যাচ্ছিল কিন্তু রাফি সাহেব এসবের কিছুরই পার্থক্য করতে পারেননি—তাঁর পথ কখনই সময়ের স্রোতে ভেসে পাল্টে যায়নি ।

 

তাঁর কাছে, পারিবারিক মেলবন্ধনের গুরুত্ত্ব বেশী ছিল ।আমি মনে করি যে তাঁর সবচেয়ে ভালো সময় কাটত যখন তাঁর ডাকে আমাদের বাড়িতে আমন্ত্রন জানাত ও আমাকে ভালো খাবার আয়োজন করতে বলতেন ও বসে খোশগল্পে মেতে উঠত । আমাদের পরিবারের একান্নবর্তী আবহের প্রতি রাফি সাহেবের বিশেষ নজর ছিল ।

 

আমার স্বামীর কোন প্রিয় গায়ক ছিলো না । যে কোন ভালো গান শুনতে ভালো লাগলে ,তিনি গায়কের প্রশংসা করতেন । এমনকি সে যদি কখনও একজনকে আরেকজনের চেয়ে বেশী পছন্দ করেও থাকেন, তবুও তিনি বলতেন না- এমনকি আমাদেরও না । সে সবসময় ভাবত, যদি সে পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তবে সে অন্য অনেককে দরকষাকষিতে ঠকাবে ।যদি কেউ এসে বলত, ‘ রাফি সাহেব, আপনি খুব ভালো গেয়েছিলেন তাই ছবিটি জনপ্রিয় হলো ও নায়কের ভাগ্যে তারকাখ্যাতি জুটল । সে প্রতিত্তুরে বলত, “যদি সঙ্গীত পরিচালক ও ঐ নায়ক না থাকত, তবে আমি ঐ গান গাইতেই পারতাম না ।ইনকি ভিজয় সে মুঝে কাম মিলা( এমন বিজয়েই আমার কাজ মেলে )” ।

যাদের সাথে কাজ করেছেন এমন প্রত্যেক সঙ্গীত পরিচালককে তিনি সমানভাবে শ্রদ্ধা করতেন ।উদাহারণ স্বরুপ- যখন রাফি সাহেব একজন প্রতিষ্ঠিত কন্ঠশিল্পী তখন লক্ষীকান্ত-পেয়ারলাল ছিলেন জয়কিষানের দলের বেহালা বাদক ।এমনকি যখন লক্ষী-পেয়ারেলাল সুনাম কুড়ালো তখন কখন-ই একবারের জন্য রাফি সাহেব তাদের নিছক বেহালাবাদক হিসেবে মূল্যায়ন করেননি । তিনি সবসময় বলতেন, আমার শিক্ষাগুরু( মেরে উস্তাদ হ্যাঁয়), আমি তাদের সাথে গাইতে পেরে আরো অনেক কিছু শিখতে পারবো”।

 

প্রিয় গান? আমি জানি তাঁর নিজের প্রিয় গান দুলারি(Dulari-1949) ছবির নওশাদ সাহেবের সুরে – “সুহানি রাত ঢাল চুকি, না জানে তুম কাhttps://www.youtube.com/watch?v=Rw_jNbSVDGkব আয়োগি”(মোহনীয় রাত পেরিয়ে গেল, জানি না তুমি কবে আসবে?)। তাঁর বেশ কয়েকটি পছন্দের গান রয়েছে । আমি এটা জানতাম, কেননা, রেকর্ডিং শেষ করে ফিরেই তিনি সন্তানদের নিয়ে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান গাইতেন । খোশ মেজাজে থাকলে এটি তিনি প্রায়ই করতেন ।

 

 

রাফি সাহেব খুব উপভোগ করতেন যখন তিনি জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী দের সাথে সহশিল্পী হিসেবে গান করতেন- উদাহারণস্বরুপ ‘Jab Jab Phool Khile’ তে ‘নন্দা’

অথবা ‘Aman’ এ ‘সায়রা বানু’র সাথে । তিনি সবসময় খুব আগ্রহভরে আমাদের বলতেন, “ আজ আমি অমুকের সাথে… তমুকের সাথে… গান গেয়েছি” ।

 

 

প্রিয় চলচ্চিত্র? সৃষ্টিকর্তা-ই ভালো জানেন তাঁর পছন্দ সম্বন্ধে । কিন্তু তিনি শোলে(Sholay) চলচ্চিত্রটি তিনবার দেখেছেন ।তিনি অনেকবার জুরি ছিলেন কিন্তু বিশেষভাবে উল্লেখ করার মত চলচ্চিত্রের কথা স্মরণ করতে পারছি না ।

.

 

অভিনেতাদের মধ্যে যতদুর মনে পড়ে, রাফি সাহেব শাম্মীজী (শাম্মী কাপুর)ও ধর্মজী (ধর্মেন্দ্র) বিশেষ পছন্দের জায়গায় ছিলেন । শাম্মীজী , প্রত্যেক রেকর্ডিং-এ রাফি সাহেবকে শুনতেন এবং কোন একটি নির্দিষ্ট অংশ আক্ষরিকভাবেই তাঁর মত করেই অনুকরণের চেষ্টা করতেন অথবা কোন একটি শব্দের হুবহু অভিব্যাক্তি প্রকাশভঙ্গিতে ফুটিয়ে তুলতেন ।ধর্মজী(ধর্মেন্দ্র), আরেকজন অভিনেতা যিনি খোলাখুলিভাবেই রাফি সাহেবের প্রতি তাঁর অগাধ ভালোবাসার অভিব্যাক্তি প্রকাশ করতেন । প্রকৃতপক্ষে, আমি মনে করি না যে , চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট এমন কোন ব্যাক্তি আছে যে আমার স্বামীকে পছন্দ করেন না । এবং ব্যাক্তিগতভাবে,সে কখনই কারো বিরুদ্ধে একটি শব্দ উচ্চারণ করেন নি  ।

 

 

আমি রাফি সাহেবের সাথে আমার জীবনের সবচেয়ে চমৎকার ৩৫ টি বছর কাটিয়েছি তাঁর বিদায়ের পূর্ববেলা পর্যন্ত… ৩১ জুলাই ’৮০ সালে যখন তিনি কেবল ৫৪ তে পা দিয়েছেন ।

 

 

 

এমনকি আজও আমার এটা মনে আছে । কালীপূজার বাংলা এলবামের জন্য  তাঁর কাছে অনুরোধ এসেছিল।একদিন আগেই সে আমাকে বলেছিল, ‘আমি ক্লান্ত, আমার মনে হয় না , আমি বাংলা গানটি গাইতে পারব’।তারপর আমি তাঁকে জানালাম যে তাহলে তিনি জেন ওদেরকে বলে দেন অন্য কাউকে নিয়ে নিতে । ‘না , না , আমি রাজী হবো এ আশা নিয়ে তারা অনেক  পথ পাড়ি দিয়ে সুদূর কলকাতা থেকে এসেছে ।এই বছর করে দিবো। কিন্তু আগামী বছর, আমি না বলে দিবো”।

 

 

 

পরের দিন, সকাল ৯.৩০ মিনিটে তিনি ব্যথা নিয়ে রেওয়াজে বসেন। কিন্তু দুপুর সাড়ে বারোটা পর্যন্ত তিনি আমাদের কিচ্ছু জানাননি। আমরা তাঁকে তিরস্কার করলাম এ ব্যাপারটা এড়িয়ে যাবার জন্য । কিন্তু তিনি বলেছিলেন, “ যে রাফির দুয়ারে আসে, তার কখনই খালি হাতে ফেরত যেতে নেই”।এটাই তাঁর শেষ কথা ।

 

তাঁর অনেক ব্যাথা হচ্ছিল ও অনেক ঘামছিলেন,। দিনটি ছিল রমজান মাস , তাই সে খুব ক্ষুধার্ত ছিল। তাঁর হাত ও পায়ের পাতা হলুদ হয়ে গিয়েছিল । চিকিৎসক আমাদের রাফি সাহেবের  খুব বড় ধরণের হার্ট এটাকের সংবাদ নিশ্চিত করে  দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করতে বলেছিলেন । তারপরেই সব শেষ…

 

 

আজ , যখন আমি কৃতজ্ঞচিত্তে .ফিরে তাকাই আমাদের ঔরসজাত সন্তানদের দিকে । তারা খুবই অপুর্ব পুত্র-কন্যা যারা আমার শক্তির স্তম্ভ তাঁর চলে যাওয়ার পর এই আট বছর যাবৎ । কিন্তু এখনও আমার ইচ্ছে হয় ফিরে যেতে সেই মুহুর্তগুলোতে যখন আমি ১৩ ও রাফি সাহেব ১৯… কত ইচ্ছে সে ফিরে আসবে আমার কাছে সে সন্ধ্যাগুলোর মত প্রত্যেকবার পাশে এসে বসে শুধোবে, “তোমার কী কষ্ট হচ্ছে? তোমার যন্ত্রনার কথা আমাকে বলো, দেখবে সব পালিয়ে গেছে ।“

 

 

 

 

ভিক্ষাঃ 

Original Interview:

Mohammed Rafi’s wife Bilquis Rafi interviewed by Patrick Biswas – September 1988.

Photo Courtesy:

 Najeeb Zuberi

India TV

Mohammad Rafi Quotes and Rare Photos

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s